Search This Blog

আপনাকে আপডেট নিউজ এর সাথে পেয়ে আমরা আনন্দিত এবং আপনার সাথে সমস্ত আপডেট শেয়ার করতে আগ্রহী। পরবর্তী আপডেটের জন্য আমাদের সাথেই থাকুন।
Theme images by kelvinjay. Powered by Blogger.

আবহাওয়া ও তাপমাত্রা

দীর্ঘদিন তীব্র গরমের পর ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় আজ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে যে, রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।

আজকের সর্বশেষ খবর

» » ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যাটারিচালিত রিকশা আসছে করজালে

ব্যাটারিচালিত রিকশা আসছে করজালে

মোঃ সোহেল রানা 

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ১০:১০পিএম


রাজস্ব আদায় বাড়াতে মরিয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। খুঁজছে নতুন নতুন খাত। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রাইভেটকার, জিপ ও সিএনজি অটোরিকশার মতো ব্যাটারিচালিত রিকশার ওপরও এক হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর আরোপের চিন্তা করছে সংস্থাটি। এছাড়া সিসিভেদে মোটরসাইকেলের ওপরও ২ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হতে পারে। দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

রাজধানীসহ সারা দেশে কত ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে, নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা না থাকায় তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। খাতসংশ্লিষ্টদের ধারণা, সারা দেশে ৫০ লাখেরও বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাতেই চলাচল করছে ১০-১২ লাখের মতো। এসব রিকশা নিবন্ধনের আওতায় আনতে গত বছর ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’র খসড়া করেছিল সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ।

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, গতি ও গাড়ির ধরনভেদে বিআরটিএ থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন নিতে হবে। কোনো ব্যক্তি নিজ নামে মধ্যমগতির তিনটির বেশি বা গঠিত পরিবহণ কোম্পানির নামে ২৫টির বেশি অটোরিকশা ক্রয় ও নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। ধীরগতির অটোরিকশার ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচটি কিনতে ও নিবন্ধন করতে পারবেন। অনুমোদিত ডিলার বা বিক্রেতা নিবন্ধনসংক্রান্ত যাবতীয় কাজ সম্পন্ন না করে মধ্যম ও ধীরগতির বৈদ্যুতিক-অটোরিকশা ক্রেতার কাছে হস্তান্তর করতে পারবেন না। বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলারের ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারিত হারে কর বা শুল্ক প্রযোজ্য হবে। এ নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত থ্রি-হুইলার ও সমজাতীয় মোটরযান চলাচলের ক্ষেত্রে নিবন্ধন সনদ, হালনাগাদ ফিটনেস সনদ, ট্যাক্স টোকেন গ্রহণের বাধ্যবাধকতা আওতায় আনা হয়।

অন্যদিকে গত ২৮ আগস্ট রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯ সংশোধন করা হয়। এতে সিটি করপোরেশনকে ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলারের নিবন্ধন ও অনুমোদনের ক্ষমতা দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, এলাকাভেদে অটোরিকশার করহার ভিন্ন হবে। লাইসেন্স প্রদান বা নবায়নের সময় এই কর আদায় করবে লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ। ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে হলে ৫ হাজার, পৌরসভায় হলে দুই হাজার ও ইউনিয়নের ক্ষেত্রে প্রতিবছর এক হাজার টাকা কর দিতে হবে। 

বর্তমানে সিএনজি অটোরিকশা ও প্রাইভেট কার, জিপ, এমনকি বাস-ট্রাক-পিকআপের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপিত আছে। সিএনজিতে অগ্রিম আয়কর আড়াই হাজার টাকা দিতে হয়। প্রাইভেটকার ও জিপ গাড়ির সিসিভেদে আয়কর ২৫ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে ৫২ সিটের বেশি আসনের বাসের অগ্রিম আয়কর ২৫ হাজার টাকা, এর কম আসনের বাসের ২০ হাজার টাকা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসে ৫০ হাজার টাকা, দোতলা বাস ও এসি মিনিবাস বা কোস্টারের ২৫ হাজার টাকা, নন-এসি মিনিবাস বা কোস্টারের অগ্রিম আয়কর সাড়ে ১২ হাজার টাকা। 

এদিকে সিসিভেদে মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হতে পারে। ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে কোনো অগ্রিম আয়কর দিতে হবে না। তবে ১১১ থেকে ১২৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বছরে কর দুই হাজার টাকা। ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসি পর্যন্ত পাঁচ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলের জন্য প্রতিবছর ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সবশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৮০।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হাদিউজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, সড়ক আইনে মোটরসাইকেল বৈধ বাহন। তাই ব্যক্তিগত গাড়ি বা অন্য যানবাহনের মতো এই বাহনের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপ যুক্তিযুক্ত, তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে এটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হয়। এতে করজালের কলেবর বাড়বে। যারা কর দিচ্ছে, তাদের ওপর চাপ কমবে। তিনি আরও বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশায় অগ্রিম আয়কর আরোপের ক্ষেত্রে সরকারকে আরও কৌশলী হওয়া উচিত। কেননা এরই মধ্যে রাজধানীর সড়কে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত এসব স্বল্পগতির বাহন চলাচল করছে। এগুলোর কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত যানজট ও দুর্ঘটনা ঘটছে। যার আর্থিক ক্ষতি হয়তো অগ্রিম আয়কর আরোপে সরকার যে রাজস্ব আদায় করবে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি হবে। এ অবস্থায় অগ্রিম আয়কর আরোপের আগে অটোরিকশার সংখ্যা ও সড়কের সঙ্গে মানানসই বাহন নির্ধারণ জরুরি। 

জানা যায়, বর্তমানে মোটরসাইকেল চালকদের অগ্রিম আয়কর দিতে হয় না। শুধু এককালীন নিবন্ধন ফি ও ২ বছর পরপর রোড ট্যাক্স দিতে হয়। ৫০ থেকে ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলের সর্বমোট রেজিস্ট্রেশন ফি ৯ হাজার ২৯১ টাকা। পরবর্তী ২ বছর পরপর প্রতি কিস্তি এক হাজার ১৫০ টাকা করে ৪টি কিস্তিতে অবশিষ্ট ৪ হাজার ৬০০ টাকা রোড ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়। ১২৫ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন ফি ১১ হাজার ৭৬৪ টাকা। পরবর্তী ২ বছর পরপর প্রতি কিস্তি ২,৩০০ টাকা করে ৪টি কিস্তিতে অবশিষ্ট ৯ হাজার ২০০ টাকা রোড ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়।

বিদ্যমান আয়কর আইন অনুযায়ী, গাড়ির মালিকদের প্রতিবছর ফিটনেস নবায়নের সময় নির্দিষ্ট হারে অগ্রিম আয়কর দিতে হয়, যা বার্ষিক আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় মূল করের সঙ্গে সমন্বয় করা যায়। একইভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মোটরসাইকেল মালিকরা অগ্রিম আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারবে।

 


আরও পড়ুন

Newspapers

ব্রেকিং নিউজ অ্যালার্ট

বৈদেশিক বাণিজ্যে স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্রে সুদের হার বা মোট খরচের হার বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রণীত ভিত্তি সুদ হার সোফর (সিকিউরড ওভারনাইট ফিন্যান্সিং রেট) রেট বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক মুদ্রার ভিত্তি সুদের হারের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ যোগ করে সুদের হার নির্ধারিত হবে। 

এ হারে ব্যাংকগুলোকে আমদানিতে অর্থায়ন, রপ্তানি বিল কেনা ও অগ্রিম আমদানির বিল পরিশোধ করতে হবে। ওই সীমার মধ্যে থেকেই সেবার সুদ, ফি বা কমিশন এবং অন্যান্য চার্জ দিতে হবে। 

সোমবার এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের পাঠানো হয়েছে। এ নির্দেশনা জারির দিন থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে বৈদেশিক বাণিজ্যের খরচ কমবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলোকে বৈদেশিক বাণিজ্যের ওইসব সেবার বিপরীতে আরও বেশি অর্থ খরচ করতে হয়। এ খাতে খরচ কমলে আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রমে অর্থ সাশ্রয় হবে। 

বর্তমানে সিকিউরড ওভারনাইট ফিন্যান্সিং রেট বা সোফর রেট হচ্ছে ৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এর সঙ্গে আরও ৩ শতাংশ যোগ করলে ঋণের সুদের হার দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ এখন থেকে আমদানি রপ্তানি বা অন্যান্য বৈদেশিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে সেবার মোট খরচ হবে ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। আগে এ খাতে খরচ হতো ৮ থেকে ৯ শতাংশ। ফলে এ খাতে খরচ কমবে। ব্যাংকগুলোকে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে ও অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে ইউরো মুদ্রায় ভিত্তি সুদের হার ইউরোর রেট এখন ২ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এর সঙ্গে ৩ শতাংশ যোগ করলে খরচ হবে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। 

সূত্র জানায়, এ খাতে অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত মুনাফা করত। যে কারণে এতে খরচ বেশি হতো। এখন থেকে এ হার বেঁধে দেওয়ার ফলে ব্যাংকগুলোর মুনাফা যেমন কমবে, তেমনি আমদানি রপ্তানিতে খরচও কমবে।

«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply