Search This Blog

আপনাকে আপডেট নিউজ এর সাথে পেয়ে আমরা আনন্দিত এবং আপনার সাথে সমস্ত আপডেট শেয়ার করতে আগ্রহী। পরবর্তী আপডেটের জন্য আমাদের সাথেই থাকুন।
Theme images by kelvinjay. Powered by Blogger.

আজকের সর্বশেষ খবর

ঈদের ছুটিতে নদী, ইতিহাস ও স্থাপত্যের টানে যেতে পারেন সিরাজগঞ্জে

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পরিবার নিয়ে স্বল্প খরচে ঘুরতে চাইলে যমুনা তীরের জেলা সিরাজগঞ্জ হতে পারে আদর্শ গন্তব্য। এখানে নদী, ইতিহাস, স্থাপত্য, নৌভ্রমণ এবং বিনোদনের সমন্বয়ে পুরো দিন কাটানো সম্ভব। জেলা শহর থেকে প্রতিটি দর্শনীয় স্থানের দূরত্ব, যাতায়াত, খোলার সময়, টিকিট এবং দর্শনার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হলো।

পুরাতন জেলখানা ঘাট ও সিরাজগঞ্জ পৌর শিশুপার্ক


সিরাজগঞ্জের সবচেয়ে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানটি হলো পুরাতন জেলখানা ঘাট৷ জেলা শহর থেকে প্রায় ৫ কিমি দূরে যমুনা নদীর পাড়ে অবস্থিত পুরাতন জেলখানা ঘাট। রিকশা বা অটোরিকশায় জনপ্রতি ২০-৩০ টাকায় পৌঁছানো যায় এখানে। ঘাটে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো টিকিট কাটাঁর প্রয়োজন হয় না। এখানে যমুনা নদীর প্রাকৃতিক দৃশ্য, সূর্যাস্ত, পরিবারসহ ঘুরে বেড়ানোর জন্য সবচেয়ে সুন্দর ও মনোরম জায়গা। যমুনার বাতাস অশান্ত মনকে শান্ত করে দিতে পারবে খুব সহজেই।


পাশেই রয়েছে সিরাজগঞ্জ পৌর শিশু পার্ক। এই পার্ক সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে এবং প্রবেশমূল্য ৩০ টাকা জনপ্রতি। এখানে শিশুদের জন্য রাইড রয়েছে। ঈদে ভিড় বেশি হলেও পরিবারসহ ঘুরতে খুব উপযোগী একটি জায়গা এটি।

সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধ (হার্ডপয়েন্ট)


পুরাতন জেলখানা ঘাট থেকে ২-৩ কিমি হাঁটলেই পৌঁছানো যায় এই বাঁধে। যমুনার ভাঙন থেকে শহর রক্ষার জন্য নির্মিত দীর্ঘ বাঁধটি বর্তমানে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র। এখানে স্বাধীনতার স্মৃতিস্তম্ভ ও ‘Love Sirajganj’ ফটোগ্রাফ স্পট রয়েছে। এটিও ফ্রি ও সবসময় উন্মুক্ত।

চায়না বাঁধ


পুরাতন জেলখানা ঘাট কিংবা হার্ডপয়েন্ট থেকে নৌকা ভ্রমণ করে মাত্র ২০ মিনিটে পৌঁছানো যায়। নৌকা ভাড়া জনপ্রতি ৪০ টাকা (যাওয়া-আসা মিলিয়ে), ঈদে সামান্য বেড়ে যেতে পারে। নৌকা ভ্রমণ ভোর ৭টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্তই উত্তম। নদীর কোলঘেঁষা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং শান্ত পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করবে। এই বাঁধগুলো মূলত নদীভাঙন রোধে নির্মিত হলেও, এর পিচঢালা রাস্তা এবং যমুনার মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিন প্রচুর দর্শনার্থী এখানে ভিড় করেন।


যমুনা সেতু ও যমুনা রেলসেতু


পুরাতন জেলখানা ঘাট বা চায়না বাঁধ থেকে নৌকায় নদীপথে প্রায় ৫ কিমি দূরেই যমুনা সেতু ও রেলসেতু নৌকা ভাড়া জনপ্রতি ১০০ টাকা (যাওয়া-আসা মিলিয়ে) ভাড়া দিয়েই সেতুর নিচে যাওয়া যায়। ভোর ৭টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নৌকা চলাচল করে। সরাসরি সেতুর নিচে একমাত্র নৌপথে যাওয়া সম্ভব, সড়কপথে বিশেষ অনুমতি ব্যতিত যাওয়া সম্ভব নয়। এখানে প্রবেশ ফ্রি এবং নদীর মাঝ থেকে বিশাল সেতুর দৃশ্য উপভোগ করা যায়। পাশে যমুনা নদীর চরে দাঁড়িয়ে মানুষজন সেতুর সঙ্গে ভালোভাবে ছবি তুলে ফ্রেমবন্দি করে রাখতে পারবেন।


রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি ও জাদুঘর


সিরাজগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ৪০ কিমি দূরে শাহজাদপুরে অবস্থিত রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি। অষ্টাদশ শতকে নীলকুঠি হিসেবে ব্যবহৃত ভবনটি ১৮৪২ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ক্রয় করেন। ১৮৯০ থেকে ১৮৯৬ সাল পর্যন্ত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখানে অবস্থান করে একাধিক সাহিত্যকর্ম রচনা করেন।

রবীন্দ্র কাছারি বাড়িতে কবির শৈশব থেকে প্রবীণ বয়সের আলোকচিত্র, পালকি, আসবাবপত্র, চিত্রকর্ম এবং সাহিত্যকর্ম সংরক্ষিত। দর্শনার্থীরা কবির স্মৃতি উপভোগ করতে এবং ছবি তুলতে পারেন।



জেলা শহর থেকে বাসে কিংবা সিএনজিতে পৌঁছানো যায়। সেক্ষেত্রে ৭০ টাকা দিয়ে নামতে হয় শাহজাদপুর উপজেলার বিসিক বাসস্ট্যান্ডে৷ এরপর সেখান থেকে অটোরিকশা তে সর্বোচ্চ ২০ টাকা ভাড়া দিয়ে কাছারি বাড়ি যাওয়া যায়৷ রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি প্রতিদিন খোলা থেকে। তবে জাদুঘর সাপ্তাহের রোববার বন্ধ থাকে। আবার রমজান মাসে শুক্রবার বাদ জুমা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জাদুঘর ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের দর্শনার্থীদের টিকিট ২০ টাকা, বিদেশিদের ১০০ টাকা টিকিট ফির মূল্য রয়েছে৷

সলপে গেলে চিড়া-মুড়ির সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী সলপের ঘোলের স্বাদ আপনাকে মুগ্ধ করবেই। প্রতিদিন ভোরে গ্রামের খামারিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা তাজা গরুর দুধ আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা জ্বাল দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময় জ্বাল দেওয়ার পর সেই দুধ পাত্রে করে সারারাত রেখে দেওয়া হয়। সকালে জমে থাকা দুধের সঙ্গে চিনি ও বিশেষ উপকরণ মিশিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু এই পানীয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রায় ১০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করে আসছে সলপের ঘোল, যার সুনাম শুধু চলনবিল ও যমুনা নদীবেষ্টিত এই অঞ্চলে নয়, ছড়িয়ে আছে দেশজুড়ে।

অন্যদিকে, উল্লাপাড়া উপজেলার ফুলজোড় নদীর ওপর অবস্থিত ঐতিহাসিক ঘাটিনা রেলব্রিজ শুধু একটি যোগাযোগ অবকাঠামো নয়, এটি মুক্তিযুদ্ধের এক স্মরণীয় অধ্যায়ের সাক্ষী। সিরাজগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে নির্মিত এই রেলসেতুর মূল উদ্দেশ ছিল রেলপথে মানুষ ও পণ্য পরিবহন সহজতর করা। আজও ব্রিজটির স্থাপত্য ও আশপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণ করে। ইতিহাস ও প্রকৃতির সংমিশ্রণ উপভোগ করতে চাইলে ঘাটিনা ব্রিজ হতে পারে আপনার জন্য এক আদর্শ গন্তব্য।

আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদ ও এনায়েতপুর বাঁধ


জেলা শহর থেকে প্রায় ২২ কিমি দূরে অবস্থিত। বাস বা সিএনজি ব্যবহার করে সিরাজগঞ্জ জেলা শহরে আসতে হবে৷ এরপর ২০ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে রেলগেট, সেখান থেকে বেলকুচিগামী সিএনজিতে ৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে মসজিদে যাওয়া যায়। মসজিদটি সবসময় উন্মুক্ত থাকে। তবে রাতের সৌন্দর্য আরও বেশি সুন্দর। এখানে কোনো প্রবেশ ফি নেই।

মসজিদ থেকে ৯ কিমি দূরে এনায়েতপুর বেরিবাঁধ অবস্থিত। যেখানে অনুমতি ছাড়া খাজা ইউনূস আলী মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ সম্ভব নয়। তবে বাঁধের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়৷ মসজিদ থেকে এখানে আসতে ৩০ টাকার মতো প্রয়োজন হয়।



নবরত্ন মন্দির


জেলা শহর থেকে ৩৮ কিমি দূরে হাটিকুমরুল নবরত্ন মন্দির। সিরাজগঞ্জ রোড/হাটিকুমরুল গোলচত্বরে নেমে সিএনজি বা অটোরিকশা ব্যবহার করে ৫০ টাকা ভাড়া লাগে জনপ্রতি। সেখান থেকে মন্দির প্রাঙ্গণের ভাড়া ১০ টাকা। খোলা থাকে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫-৬টা। প্রবেশ ফ্রি এবং ভেতরে ছবি তোলার অনুমতি আছে। প্রাচীন স্থাপত্যের জন্য পর্যটকরা সুন্দরভাবে ফটোগ্রাফি করতে পারবেন এখানে।


ঈদের ছুটিতে সিরাজগঞ্জে নদীর সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক স্মৃতিচারণ, স্থাপত্য দর্শন এবং নৌভ্রমণ মিলিয়ে পরিবারসহ আনন্দঘন সময় কাটানো সম্ভব। প্রতিটি স্থানে জেলা শহর থেকে সহজে যাওয়া যায় এবং কম খরচে ভ্রমণ করা যায়।





সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আনসার বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর



প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। সচিবালয়ে, ৪ মার্চ ২০২৬ছবি: পিএমও বাংলাদেশ ফেসবুক পেজ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (ভিডিপি) সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ নির্দেশ দেন

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী দেশপ্রেম ও পেশাদারত্বে আনসার ও ভিডিপির নিরলস প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ ছাড়া সরকারপ্রধান জনগণের স্বার্থে সেবামূলক কাজ অব্যাহত রাখতে বাহিনীর সব সদস্যের প্রতি আহ্বান জানান

এ সময় মহাপরিচালক আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ আনসার ও ভিডিপির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করেন।

নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন করে আনসার সদস্য থাকবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

  নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন করে আনসার সদস্য থাকবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা




কুচকাওয়াজে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য চারজন চৌকস প্রশিক্ষণার্থীকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। সোমবার গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আনসার ভিডিপি একাডেমিতে

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে সারা দেশের মোট ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে ১৩ জন করে মোট ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবেন ৩ জন অস্ত্রধারী, ৬ জন অস্ত্রবিহীন পুরুষ এবং ৪ জন অস্ত্রবিহীন নারী সদস্য।

আজ সোমবার সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত উপজেলা প্রশিক্ষক-প্রশিক্ষিকাদের মৌলিক প্রশিক্ষণ এবং ২৬ ও ২৭ তম ব্যাচ (পুরুষ) রিক্রুট সিপাহি মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন উপদেষ্টা।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অতিরিক্ত নিরাপত্তার অংশ হিসেবে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত ৩ জন অস্ত্রধারী সদস্যের মধ্য থেকে একজন নির্বাচনকালীন প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি সারা দেশে এক হাজার ১৯১টি আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি টিমে ১০ জন করে মোট ১১ হাজার ৯১০ জন সদস্য দায়িত্বে থাকবেন।

নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সমন্বিত প্রস্তুতি গ্রহণ করে আসছে বলে জানান জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, নতুন প্রশিক্ষণ নীতিমালার আলোকে ইতিমধ্যে দুই লাখ ৫৫ হাজার ভিডিপি ও ভিডিপি সদস্য-সদস্যা এবং ৩ হাজারেরও অধিক আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যকে মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা কোনো রাজনৈতিক দলের বাহিনী কিংবা কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষক নয়। বরং এটি রাষ্ট্রের নিরীহ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী। কোনো স্বার্থান্বেষী এজেন্ডা বা কোনো পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ না হন। সাহস মানে শুধু বিপদের মুখে দাঁড়ানো নয়; সাহস মানে অন্যায় আদেশকে না বলা, অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেওয়া।

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য চারজন চৌকস প্রশিক্ষণার্থীকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানান উপদেষ্টা। শেষে আনসার সদস্যদের বেশ কয়েকটি দল নিজেদের শারীরিক সক্ষমতা কসরত ও আপৎকালীন সময়ে উদ্ধার তৎপরতা প্রদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবক ও বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এর আগে আজ সকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আব্দুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সফিপুর আনসার ভিডিপি একাডেমির কমান্ড্যান্ট (ভারপ্রাপ্ত) নুরুল আফছার, গাজীপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন, গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দীন প্রমুখ।



নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যদের জন্য সহজ ও নিরাপদ ভোটাধিকার: পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা

 **নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যদের জন্য সহজ ও নিরাপদ ভোটাধিকার: পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা**




আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন- ২০২৬ কে  সামনে রেখে প্রবাসে থাকা ভোটার, আইনি হেফাজতে থাকা ভোটার, ভোটার এলাকার বাহিরে অবস্থানরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন আইটি সাপোর্টেড পোষ্টাল ব্যালটের মধ্যমে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের জন্য ভোটারগনকে Postal Vote bd মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করে রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। 


বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সদস্যদের পোস্টাল ব্যালট এর মাধ্যমে ভোট প্রদানের নিমিত্তে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে। রেজিস্ট্রেশন ব্যতীত নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান করতে পারবেনা। 


চলুন দেখে নিই Postal Vote bd অ্যাপ রেজিস্ট্রেশন থেকে শুরু করে ভোট প্রদানের সম্পুর্ন প্রক্রিয়াঃ-  


ধাপ ০১: প্রথমে App Store অথবা Play Store থেকে Postal Vote BD App টি ডাউনলোড এবং ইনস্টল করুন।

ধাপ ০২: App টি চালু করুন এবং প্রথমে ভাষা নির্বাচন করুন।

ধাপ ০৩। প্রথমে রেজিস্ট্রেশন বাটনে ক্লিক করে একটি নতুন একাউন্ট তৈরী করুন।

ধাপ ০৪: বাংলাদেশ নির্বাচন করে আপনার মোবাইল নম্বর লিখুন ও সামনে এগিয়ে যান। এরপর আপনার মোবাইলে একটি OTP আসবে। OTP ঠিক হলে আপনার একাউন্ট এর পাসওয়ার্ড দিলে একাউন্টটি তৈরী হয়ে যাবে।

ধাপ ০৫: পুনরায় আপনার মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন 

ধাপ ০৬: এই ধাপে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের সামনের দিকের ছবি তুলে ভেরিফিকেশন করুন, লাইভলিনেস যাচাই করুন এবং আপনার সেলফি তুলুন।

ধাপ ০৭। এ পর্যায়ে যে ঠিকানায় ব্যালট পেতে চান তা সঠিকভাবে লিখুন 

ধাপ ০৮। এ পর্যায়ে ভোটারের আবেদনের তালিকা অনুযায়ী ব্যালট তৈরী হবে ও বিডি পোস্ট এর মাধ্যমে প্রেরণ করা হবে এবং ভোটার এই সংক্রান্ত স্ট্যাটাস তার app থেকে দেখতে পাবে।

ধাপ ০৯: প্রতীক নির্ধারণের পর ভোটার তার ব্যালটটি হাতে পাওয়ার পর পুনরায় মোবাইল app এ লগইন করতে হবে এবং লাইভলিনেস পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে সেই ব্যক্তিই সঠিক ব্যক্তি কিনা।  

ধাপ ১০: এ পর্যায়ে খামের উপরে থাকা QR কোডটি স্ক্যান করতে হবে এবং সঠিক মোবাইল দ্বারা QR কোডটি স্ক্যান করার পর ভোটার এর ব্যালট প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হবে। এরপর ভোটার তার আসনে প্রার্থী ও প্রতীক দেখতে পাবে।

ধাপ ১১। ভোটার ব্যালট এর খামের নির্দেশিকা পড়ে স্বাক্ষর প্রদান করবেন এবং ব্ল‍্যাংক/ফাঁকা ব্যালটটি-তে প্রতীক এর পশে টিক বা ক্রস চিহ্ন দিয়ে ভোট প্রদান সম্পূর্ণ করবেন।

ধাপ ১২: এখন ব্যালটটিকে প্রথমে ব্যালটের খামে ঢুকাতে হবে এবং তা ফেরত খামে ভরে নিকটস্থ পোস্ট অফিস অথবা পোস্ট বক্সে জমা দিতে হবে।

ধাপ ১৩। ফেরত খামগুলি বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসার এর নিকট পৌঁছে দেওয়া হবে।

ধাপ ১৪: ভোটের দিন তা গণনা করা হবে।

অবাধ,সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক ধারায় উত্তরণের এই গুরুত্বপূর্ণ যাত্রায় অংশীদার হওয়ার সুযোগ রয়েছে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের। রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার একটি কার্যকর মাধ্যম হলো পোস্টাল ভোটিং।

নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত বাহিনীর সকল সদস্যকে পোস্টাল ভোটিংয়ের মাধ্যমে তাদের মূল্যবান ভোটাধিকার প্রয়োগে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করা যাচ্ছে।

ঘরে বসেই জন্ম সনদ বাংলা থেকে ইংরেজি করবেন যেভাবে

 ঘরে বসেই জন্ম সনদ বাংলা থেকে ইংরেজি করবেন যেভাবে

ছবি: সংগৃহীত

পাসপোর্ট, ভিসা বা বিদেশে পড়াশোনার জন্য আবেদন করার সময় যদি জন্ম নিবন্ধন সনদ বাংলায় থাকে, তাহলে ঝামেলায় পড়তে হয়। এ ক্ষেত্রে জন্ম সনদ ইংরেজিতে রূপান্তর করা বাধ্যতামূলক হয়।

সুখবর হলো— ঘরে বসেই আপনি অনলাইনে এই কাজটি সম্পন্ন করতে পারবেন। বাংলাদেশ সরকারের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন পোর্টাল— bdris.gov.bd থেকে সহজেই জন্ম সনদ ইংরেজিতে রূপান্তর করা যায়।
Ad

বাংলা থেকে ইংরেজিতে রূপান্তরের পুরো প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো—

১. ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন

আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। এটি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য সরকার নির্ধারিত অফিসিয়াল পোর্টাল।

২. জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্ম তারিখ দিন

‘জন্ম নিবন্ধন সংশোধন’ অপশনে ক্লিক করুন। এরপর আপনার ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিয়ে অনুসন্ধান করুন।

৩. নিবন্ধন কার্যালয় নির্বাচন করুন

যে অফিসে আপনার জন্ম নিবন্ধন হয়েছিল (ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন) সেটি সঠিকভাবে নির্বাচন করুন।

৪. ইংরেজিতে তথ্য পূরণ করুন

আপনার নাম, পিতামাতার নাম, ঠিকানা ইত্যাদি নির্ভুলভাবে ইংরেজিতে লিখুন। প্রতিটি ঘরে আলাদাভাবে তথ্য দিতে হবে।

৫. ঠিকানা ইংরেজিতে লিখুন

জন্মস্থান ও বর্তমান ঠিকানা ইংরেজিতে লিখুন। আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক (father/mother) উল্লেখ করতে হবে।

৬. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করুন

নিচের কাগজগুলো স্ক্যান করে আপলোড করুন (প্রতিটি ফাইলের সাইজ 976KB-এর মধ্যে রাখতে হবে)—

> জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)

> এসএসসি/এইচএসসি সার্টিফিকেট

> পুরানো জন্ম নিবন্ধন সনদ

৭. পেমেন্ট সম্পন্ন করুন

সব তথ্য আপলোডের পর ১০০ টাকার সরকারি ফি দিতে হবে। বিকাশ, নগদসহ মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে পেমেন্ট করতে পারবেন।

৮. আবেদন জমা দিন

সবকিছু ঠিক থাকলে ‘আবেদন জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করুন। জমা দেওয়ার পর একটি রেফারেন্স নম্বর পাবেন— এটি সংরক্ষণ করে রাখুন।

৯. প্রিন্ট কপি নিয়ে অফিসে জমা দিন

আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রিন্ট কপি নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন অফিসে নির্ধারিত তারিখে জমা দিন।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এক নজরে—

> জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট

> মাধ্যমিক/উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট

> পুরানো জন্ম নিবন্ধন সনদ

এভাবেই আপনি ঘরে বসে সহজে জন্ম সনদ বাংলা থেকে ইংরেজিতে রূপান্তর করতে পারবেন।


প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটাররা Postal Vote BD অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করুন

প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটাররা Postal Vote BD অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করুন ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে। ব্যালট পৌছে যাবে আপনার ঠিকানায়।


 প্রবাসীরা প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন পোস্টাল পদ্ধতিতে 

পোস্টাল ভোট বিডি হল বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক তৈরি একটি অফিসিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন যা শুধুমাত্র দেশে এবং বিদেশে ভোটার তালিকাভুক্তি এবং ব্যালট পেপার ট্র্যাক করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তবে, ভোটাররা ডাক পরিষেবা দ্বারা প্রেরিত পোস্টাল ব্যালট পেপারে ম্যানুয়ালি ভোট দিয়ে তাদের ভোটদান প্রয়োগ করবেন। ভোটাররা এই ব্যালট পেপারটি ডাক পরিষেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন। এই নিরাপদ এবং যাচাইকৃত প্ল্যাটফর্মটি যোগ্য ভোটারদের যেকোনো জায়গা থেকে সুবিধাজনকভাবে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে সক্ষম করে।







অ্যাপ ডাউনলোড লিংক:- Download




সিরাজগঞ্জে নারী ইউপি সদস্যকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক

 

  সংগৃহিত ছবি  

সিরাজগঞ্জের শাহ্জাদপুরে পেয়ারা খাতুন নামে এক নারী ইউপি সদস্যকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে তার স্বামী পলাতক রয়েছেন। শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

নিহত পেয়ারা খাতুন রতনকান্দি গ্রামের হানিফ সরকারের মেয়ে। তিনি হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যা ছিলেন। অভিযুক্ত আব্দুল আলীম হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। 

পেয়ারা খাতুনের বাবা হানিফ সরকার জানান, আব্দুল আলীমের স্ত্রী থাকা স্বত্বেও ব্লাককমেইল করে পেয়ারা খাতুনকে দ্বিতীয় বিয়ে করে। বিয়ের পর চাপ সৃষ্টি করে পেয়ারার কাছে থেকে ১৭ লাখ টাকা নেয়। এরপর থেকে নানাভাবে নির্যাতন করতে থাকে। এনিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। এই দ্বন্দ্বের জেরেই আব্দুল আলীম তার স্বজনরা পেয়ারাকে হত্যা করে পালিয়েছে।

শাহজাদপুর থানার ওসি মো. আছলাম আলী জানান, সকালে বসতবাড়িতে তালা দেখে সন্দেহ হওয়ায় এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সিরাজগঞ্জ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পেয়ারা খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।  ঘটনায় নিহতের বাবা হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বলেও ওসি জানান।


সমুদ্রের নিচের ভূমিকম্পে বাংলাদেশে সুনামির ঝুঁকি কতটা?

আপডেট খবর


        --- প্রতীকী ছবি   

বাংলাদেশে গত এক সপ্তাহে বেশ কয়েকবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মাঝে ২৬শে নভেম্বর বুধবার রাতে বঙ্গোপসাগরে চার মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছে।

গত ২৭ নভেম্বর ছয় দশমিক ছয় মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়। এর কারণে বড় কোনো সুনামির খবর পাওয়া যায়নি।

তবে ইন্দোনেশিয়ায় অথবা আন্দামান নিকবোর দ্বীপের দিকে বড় ভূমিকম্প হলে বাংলাদেশেও সুনামির ঝুঁকি রয়েছে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

যেমন ২০০৪ সালে ইন্দোনেশিয়ায় নয় দশমিক এক মাত্রার ভূমিকম্পে যেখানে দুই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, সেই সুনামি আফ্রিকার দেশগুলো পর্যন্ত চলে গিয়েছিল। সেই সুনামির ধাক্কা বাংলাদেশেও লেগেছিল এবং তাতে দুজন মানুষের মৃত্যুর খবর জানা যায়।

সমুদ্রের নিচের ভূমিকম্প কেন হয়? সেগুলো কতটা বিপজ্জনক? আর বাংলাদেশে সুনামির ঝুঁকিই বা কতটা?

ভূমিকম্প ও সুনামি


ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা বলছেন, সাগরে যদি ভূমিকম্প ছয় দশমিক পাঁচ মাত্রার উপরে যায় তারপর সে সুনামি হবে কি না, সুনামি সার্ভিস প্রোভাইডাররা সেটা পর্যবেক্ষণ করেন। কোন জায়গায় কখন হিট করতে পারে, পানির উচ্চতা কতটা হতে পারে সেটা তারা এলার্ট করে। এটা আমরা সবময়ই টেস্ট বেসিসে করে আসছি।

তিনি বলছেন, বাংলাদেশে বঙ্গোপসাগরে প্রায়শই ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়, তবে চার মাত্রা বা এর চেয়ে দুর্বল সেসব ভূমিকম্প থেকে বড় পর্যায়ে ক্ষতির শঙ্কা থাকে না।

আবার অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভূমিতে বড় ভূমিকম্প হলেও উপকূলে সুনামির শঙ্কা থাকে।

সমুদ্রের নিচে ভূমিকম্প কেন হয়?

আমাদের পৃথিবীর ওপরের অংশ বা ভূপৃষ্ঠ বিভিন্ন প্লেটে ভাগ করা। এই প্লেটগুলো সবসময় নড়াচড়া করে।

কোথাও প্লেট একে অপরকে ঠেলে দেয়, কোথাও পাশ কাটিয়ে যায়, আবার কোথাও নিচে ঢুকে যায়। এমন ক্ষেত্রে যেমন ভূমিকম্প হয়, তেমন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকেও ভূপৃষ্ঠে কম্পন সৃষ্টি হতে পারে।

এটি মাটির উপরে বা পানির নিচে যে কোনো জায়গায় হতে পারে।

২৩ কোটি থেকে ২৮ কোটি বছর আগেও পৃথিবীর সব মহাদেশ মিলে এরকম একক ভূখণ্ড ছিল বলে তত্ত্ব রয়েছে। এটিকে বলা হয় প্যাঞ্জিয়া। টেকটনিক প্লেটের ক্রমাগত অবস্থান পরিবর্তন থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে অনেকগুলো ভূখণ্ড হয়েছিল বলে জানা যায়। এর সপক্ষে অনেক ধরনের প্রমাণও রয়েছে।

এর মাঝে একটি পানির নিচে থাকা দীর্ঘতম পর্বতমালা মিড আটলান্টিক রিজ যেভাবে পৃথিবীকে ভাগ করেছে। এর মাত্র ১০ শতাংশ মাটির উপরে যা আইসল্যান্ডে পরিষ্কার দেখা যায়।

তাহলে সুনামি কীভাবে তৈরি হয়?

সুনামি অনেকটা বিশাল আকারের জলোচ্ছ্বাসের মতো। সাধারণত ভূমিকম্প হলেই সুনামি হয় না। সুনামির জন্য ভূমিকম্প খুব শক্তিশালী হতে হয়। এছাড়া মোটামুটি অগভীর সমুদ্রতলে এরকম কম্পন সৃষ্টি হওয়াটাও একটা ফ্যাক্টর হতে পারে।

আর এমন কম্পন সমুদ্রের তলদেশকে উপরে বা নিচে ঠেলে দিলে, বিশাল পরিমাণ পানি সরে গেলে সেটি সুনামি ঘটাতে পারে। এমন বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বয় থেকে সুনামি হতে পারে।

বাংলাদেশে সুনামির ঝুঁকি কতটা?

এমনিতে প্রশান্ত মহাসাগর পৃথিবীতে ভূতাত্বিকভাবে সবচেয়ে সক্রিয় অঞ্চল যেটাকে রিং অফ ফায়ার বলা হয়। এরম বিভিন্ন সক্রিয় অঞ্চল বা সাবডাকশন জোন থাকে।

বড় সুনামি সৃষ্টিকারী সাবডাকশন জোনগুলো বাংলাদেশ থেকে বেশ দূরে। বাংলাদেশ দুইটা বড় টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে রয়েছে, যা চট্টগ্রাম-আরাকান থেকে আন্দামানের দিকে চলে গেছে।

তবে বাংলাদেশে সুনামির ঝুকি নিয়ে অবশ্য ভিন্ন ভিন্ন ধরনের পর্যবেক্ষণ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে, বাংলাদেশের খুব কাছাকাছি, সাগরের নিচে খুব নিকটবর্তী সময়ে বড় ভূমিকম্প এবং তা থেকে সুনামির শঙ্কা নেই।

'নরমালি ভূমিকম্প থেকে ওইরকম সুনামির ঝুঁকি নেই, কিন্তু আন্দামান নিকোবরে হলেও ওটা আমাদের জন্য একটা সোর্স অঞ্চল। আমরা টেস্ট বেসিসে সবসময় রেডি থাকি, এটা হলে যেন আমরা সাথে সাথেই সাবধানতা অবলম্বন করতে পারি,' -বলছিলেন ফাজানা সুলতারনা।


অতীতের নানা নথিপত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলে ১৯৬২ সালে আরাকান কোস্টে প্রায় সাড়ে আট মাত্রার একটি ভূমিকম্প থেকে বড় সুনামি হয়েছিল।

বিবিসির এর আগের একটি প্রতিবেদনে ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেছিলেন, এই প্লেটে ভূমিকম্প হলে অবশ্যই বড় সুনামির আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখানে খুব তাড়াতাড়ি এই বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

সে সময়কার তথ্যে জানা যায়, তখন বড় ধরনের সুনামির তৈরি হয়েছি, যা উপকূল থেকে অনেকদূর পর্যন্ত ভেতরে এসে পৌঁছেছিল। যদিও তখন মানুষ কম ছিল বলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হয়তো তত বেশি হয়নি। তবে ঢাকায় নদীর পানি বেড়ে গিয়ে পাঁচশো মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে জানা যায়।

ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, এরপর আর এই অঞ্চলে এত বড় ভূমিকম্প বা সুনামির তথ্য পাওয়া যায় না। আমাদের হিসাবে, একবার ভূমিকম্প হওয়ার পর ওই প্লেটে শক্তি সঞ্চয় হয়ে পরবর্তী ভূমিকম্প হতে আরো ৫০০ থেকে ৯০০ বছর লেগে যায়। সেই হিসাবে এখানে ওই প্লেটে (আরাকান প্লেটে) ভূমিকম্প হতে আরো দুইশো-আড়াইশো বছর বাকি আছে।

ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ 'ফানেল শেপ' অবস্থায় রয়েছে অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে সমুদ্র দক্ষিণ দিতে প্রসারিত হয়ে গেছে।

সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেছিলেন, আন্দামান বা ভারত মহাসাগরে যদি বড় সুনামি তৈরি হয়, ফানেল শেপ হওয়ার কারণে তার প্রভাব কিছুটা বাংলাদেশে এসেও লাগবে। যদিও সেটা হয়তো ইন্দোনেশিয়ার মতো অতোটা ভয়ানক হবে না।

ভূমিকম্প সম্পর্কে খুব আগেভাগে সতর্ক করা সম্ভব না হলেও যেহেতু ভূমিকম্পের পরে পানিতে সুনামির সৃষ্টি হয়, ফলে সুনামি সম্পর্কে আগেভাগে সতর্ক করা যায়।

তবে বাংলাদেশের জন্য সমুদ্রে ভূমিকম্পের চেয়ে ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে যে ভূমিকম্পের যে ঝুঁকি রয়েছে সেটিই এখন বেশি শঙ্কার জায়গা, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।