যেসব ঘরোয়া কৌশলে বিদ্যুৎ বিল কমানো যাবে


আপডেট নিউজ 

প্রকাশ: ৩ জুন ২০২৬, ০৬:২২ এএম

18Shares
facebook sharing button
twitter sharing button
whatsapp sharing button
messenger sharing button
print sharing button
copy sharing button
যেসব ঘরোয়া কৌশলে বিদ্যুৎ বিল কমানো যাবে

ফাইল ছবি

ফলো করুন

আপডেট নিউজ 

বিদ্যুতের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও পরিবেশগত নানা চ্যালেঞ্জও সামনে আসছে। এমন বাস্তবতায় বিদ্যুৎ সাশ্রয় কেবল ব্যক্তিগত অর্থ সাশ্রয়ের বিষয় নয়, এটি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন জীবনে কয়েকটি সাধারণ ও সচেতন অভ্যাস অনুসরণ করলেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব। অপ্রয়োজনীয় বাতি ও বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ রাখা, জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার এবং বিদ্যুতের অপচয় কমানোর মতো উদ্যোগ বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

এতে একদিকে যেমন পরিবারের মাসিক বিদ্যুৎ বিল কমবে, অন্যদিকে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপও হ্রাস পাবে। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং জ্বালানি সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা সহজ হবে। তাই বিদ্যুতের সঠিক ও সাশ্রয়ী ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সবার জানা উচিত যে বিষয়গুলো

দেশে গ্রীষ্মকাল এলেই বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতে বাড়তি ব্যবহার সামাল দিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকেও বাড়তি চাপ মোকাবিলা করতে হয়।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতন ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের একটি বড় অংশ সাশ্রয় করা সম্ভব।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম. তামিম বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার বন্ধ করা। অনেক সময় আমরা প্রয়োজন না থাকলেও বাতি, ফ্যান কিংবা বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালু রাখি। এই অভ্যাস পরিবর্তন করতে পারলে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো—

এলইডি বাতির ব্যবহার বাড়ানো

প্রচলিত বাল্বের তুলনায় এলইডি বাতি অনেক কম বিদ্যুৎ খরচ করে এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। তাই বাসা কিংবা অফিসে এলইডি প্রযুক্তির আলো ব্যবহার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অন্যতম কার্যকর উপায়।

প্রয়োজন না হলে যন্ত্র বন্ধ রাখা

মোবাইল চার্জার, টেলিভিশন, কম্পিউটার কিংবা অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র অনেক সময় ব্যবহার না হলেও বিদ্যুতের সংযোগে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব যন্ত্র সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের সঠিক ব্যবহার

গরমের সময় এসির ব্যবহার বাড়লেও তাপমাত্রা অযথা কমিয়ে রাখলে বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এসি চালালে আরাম ও সাশ্রয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ড. মুজিবুর রহমান বলেন, এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দরজা-জানালা বন্ধ রাখা এবং নিয়মিত সার্ভিসিং করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে যন্ত্রের দক্ষতা বাড়ে এবং বিদ্যুৎ খরচ কমে।

প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের ব্যবহার

দিনের বেলায় যথাসম্ভব প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করা এবং ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা গেলে বৈদ্যুতিক আলো ও ফ্যানের ওপর নির্ভরতা কমে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি কেনা

নতুন ফ্রিজ, এসি বা অন্যান্য গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি কেনার সময় বিদ্যুৎ দক্ষতা বিবেচনা করা উচিত। কম বিদ্যুৎ খরচ করে এমন প্রযুক্তি দীর্ঘমেয়াদে অর্থ সাশ্রয়ে সহায়ক হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রযুক্তি নয়, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে ব্যবহারকারীর সচেতনতা। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো গেলে জাতীয় পর্যায়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয় মানে শুধু নিজের বিল কমানো নয়; এটি জাতীয় সম্পদের সুরক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আজ থেকেই বিদ্যুতের অপচয় রোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


No comments:

Post a Comment

 
ADVERTISEMENT
Advertisement

Login to Access

Please login to read our news portal

Email Address
Password

Login to Access

Please login to read our news portal

Email Address
Password

নিউজ পোর্টালে স্বাগতম

আমাদের খবরগুলো পড়তে দয়া করে লগইন করুন।